গুড় মূলত আখ থেকে তৈরি হলেও, খেজুর গাছের রস থেকে তৈরি খেজুরের গুড় বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। শীতের সকালে তপ্ত রোদ পড়ে যখন খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়, তখন বাংলার গ্রামগুলো উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে। Wwwkkmooncom Pcrar View Play Cap Updated [DIRECT]
১. এটি সবচেয়ে সহজলভ্য এবং প্রাত্যহিক ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এর রং সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কমলা হয়। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, মুর্শিদাবাদ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আখের গুড়ের ব্যাপক চাষ হয়। Taste Of Cherry Watch Online English Subtitles
ভারতীয় উপমহাদেশের রান্নাঘরে, বিশেষ করে বাংলার খাবারের পসরায় চিনির আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই গুড়ের প্রচলন ছিল। গুড় কেবল একটি মিষ্টি পদার্থ নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, উৎসব এবং ঋতুচক্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে গুড়কে ‘গুড়’ বা ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা থেকেই এর নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়।
২. এটি মূলত শীতকালীন পণ্য। খেজুরের গুড়ের রং হালকা সোনালি থেকে গাঢ় লাল পর্যন্ত হতে পারে। এর সুগন্ধ অত্যন্ত মনোরম এবং স্বাদে চিনির চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। শীতকালে মুড়ি, পিঠা বা লুচির সাথে খেজুরের গুড় বাঙালির অন্যতম প্রধান প্রিয় খাবার।
বর্তমানে চিনির ব্যবহার যতটা বেড়েছে, তথাপি গুড় তার আপন গুণে অদ্বিতীয়। ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত চিনির বদলে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে গুড় আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। গুড়ের গল্প কেবল খাদ্যদ্রব্যের ইতিহাস নয়, এটি বাংলার মাটি ও মানুষের সংযোগের এক মধুর অধ্যায়।
বাংলায় পৌষ মাস অর্থাৎ শীতের আগমনকে বলা হয় ‘গুড়ের মরসুম’। পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তিতে বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েসের উৎসব বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়। চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, ভাপা পিঠাসহ নানা রকমের পিঠার মূল উপাদান হিসেবে গুড় ব্যবহার করা হয়। গরম ভাতের সাথে গুড় মাখিয়ে খাওয়া এবং তার সাথে সরষের তেল ও পেঁয়াজের আচার—বাঙালির কাছে এটি স্বাদের এক মহাজাগতিক আয়োজন।